নাজিম উদ্দীন জনি,সিনিয়র রিপোর্টারঃ যশোরের শার্শায় নানার বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে স্বজনদের মধ্যে। জমি জবরদখল করে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগ উঠেছে মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে সরেজমিন তদন্তে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে আজমল হোসেন ইমন নামের এক যুবক শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কাজল রেখা (২১) ও মাজেদা খাতুন (৫০) সম্পর্কে বাদীর আপন খালাতো বোন ও খালা। বাদীর মামা প্রবাসে থাকার সুযোগে বিবাদীরা নানার বাড়ির সম্পত্তি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভাগ-বণ্টন না করে নিজেদের ইচ্ছামতো জমি দখল ও ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইমন।
এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ নভেম্বর যশোর প্রেসক্লাবে বাদীর পরিবারের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। ওই সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে ইমনের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। পরে গত ২ নভেম্বর সকালে বিবাদীরা ইমনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাজেদা খাতুন ও তার মেয়ে কাজল রেখার আচরণে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের অত্যাচারে আপন ভাবিও ভিটেমাটিছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে, অভিযুক্তদের পারিবারিক পরিচয় ও বিভিন্ন তথ্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ইমন জানান, মাজেদা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বামীকে মৃত বলে উল্লেখ করলেও তার স্বামী জালাল উদ্দীন জীবিত রয়েছেন এবং নাভারণ বাজারে জুতার ব্যবসা করছেন। তবে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জালাল উদ্দীনের সঙ্গে সংসার চলাকালে মাজেদা তার দেবরের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ মামলা করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। যেহেতু উভয় পক্ষের বিরোধটি মূলত জমিজমাসংক্রান্ত, তাই তাদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ইমনের বিরুদ্ধে কাজল রেখাকে ধর্ষণচেষ্টার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com