মরণোত্তর কর্নিয়া দানের মাধ্যমে দুই দৃষ্টিহীন মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে এনেছে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি। একজনের মৃত্যুর পর তাঁর দান করা কর্নিয়ায় নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন দুই ব্যক্তি।
সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার ডেমরার নারিনবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. শামছুল আলম স্বপন (৪০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তাঁর কর্নিয়া সংগ্রহ করে দুজন দৃষ্টিহীন মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিকে দান করার অনুরোধ জানান তাঁর বড় ভাই শাহীন মিয়া। পরে ভাইয়ের এই মহৎ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়ে সন্ধানীকে কর্নিয়া দান করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ৪ নভেম্বর সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে বিশিষ্ট কর্নিয়াল সার্জন ডা. সৈয়দ এ হাসান সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষুব্যাংকের সংগৃহীত কর্নিয়া দিয়ে দুই রোগীর চোখে সফল অস্ত্রোপচার করেন।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার মোপাড়াগাছ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল সিদ্দিক (৬৬) এবং ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা মিসেস আকলিমা (২৮)। এখন থেকে তাঁরা আবারও পৃথিবীর রং, রূপ ও সৌন্দর্য দেখতে পারবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২০৮টি কর্নিয়া সংগ্রহ করেছে। এসব কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৪২ জন অন্ধ মানুষের চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটি।
সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক কাশেম এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন কর্নিয়া অস্বচ্ছতাজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে মরণোত্তর কর্নিয়া দানে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর চোখের আলো অন্য মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে—মো. শামছুল আলম স্বপনের এই মহৎ দান মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com