জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে এএফপি।
বিবিসি জানিয়েছে, শনিবারের (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচি একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। মুখোশ পরা একদল তরুণ বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। রাস্তায় পার্ক করা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সহিংসতার পর রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, শহরের পুরো কয়েকটি সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সহিংসতার তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, এ ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা। সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়াটা অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন লেকর্নু।
বিক্ষোভে লাখো মানুষ
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ।
কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল দেশটিতে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবারের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে। তবে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন এবং আতশবাজি ছোড়েন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
বিক্ষোভ চলাকালে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাঁ-এতিয়েনে গুরুতর আহত হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেডের আঘাতে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও সংঘর্ষের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এ সহিংসতা দেখা দিল। জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরি এবং জনসেবার মান নিয়ে মানুষের অসন্তোষের মধ্যে দেশজুড়ে বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পরবর্তী সহিংসতা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে বিক্ষোভের কারণে আগামী নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দেশজুড়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com