শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটতে এখনো কিছুটা বাকি। তবে শেষ রাতের হালকা হিমেল হাওয়া আর ভোরের কুয়াশা জানান দিচ্ছে—প্রকৃতিতে বদলের হাওয়া লেগেছে। বেশিরভাগ মানুষ শীতের প্রস্তুতি বলতে বোঝেন কেবল আলমারি থেকে ভারী কম্বল নামানো কিংবা নতুন সোয়েটার-ব্লেজার কেনা।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের প্রকৃত প্রস্তুতি শুরু হওয়া চাই শরীরের ভেতর থেকে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে। আবহাওয়া পুরোপুরি বদলে যাওয়ার আগে জীবনযাপনে এই ছোট্ট বদলগুলো আনলে শরীর সহজেই ঠাণ্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আর্দ্রতা থেকে মুক্তির সময় জেনে অনেকেই ইতোমধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কিন্তু মনোরম শীতের আমেজ পুরোপুরি উপভোগ করতে গিয়ে অনেক সময় হঠাৎ ঠাণ্ডা লাগা বা শারীরিক অস্বস্তিতে পড়তে হয় অনেককে। তাই ঠাণ্ডা বাতাসের এই রূপবদলের সময়ে সুস্থ ও সতেজ থাকতে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। নিয়মিত ত্বকের যত্ন না নিলে ত্বক শুষ্ক হয়ে চামড়া উঠতে শুরু করে। এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো গভীরভাবে ত্বক আর্দ্র রাখা।
গোসলের পর ত্বকে বেবি অয়েল, ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, কোকো বাটার বা নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার ত্বককে রাখবে মসৃণ ও কোমল।
২. শীতের কেনাকাটা সেরে নিন
অনেকের কাছেই শীতকাল মানেই শপিংয়ের সেরা সময়। পাইকারি দরে সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটার জন্য বদরুদ্দোজা সুপার মার্কেট হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। এই শীতে আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল থাকতে আপনার ওয়ার্ডরোবে রাখতে পারেন টার্টলনেক সোয়েটার ও পশমিনা চাদর।
এ ছাড়া শীত জেঁকে বসার আগেই আপনার আলমারিতে রাখা ভারী জ্যাকেট, চাদর বা কম্বলগুলো বের করে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন কিংবা ড্রাই ক্লিন করে প্রস্তুত রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান
ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করলে আমাদের পানি পানের তৃষ্ণা কমে যায়, আর এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। শরীরে পানির ঘাটতি হলে শীতের দিনে চামড়া বেশি ফাটে এবং ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা বাড়ে।
তাই এখন থেকেই দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পানের লক্ষ্য ঠিক রাখুন। হালকা ঠাণ্ডা লাগার আমেজ তৈরি হলে পানি সামান্য কুসুম গরম করে পান করার অভ্যাস এখন থেকেই গড়ে তুলুন।
৪. খাবারে রাখুন একটু ঝাল
শীতের দিনে গরম ও মসলাদার স্যুপ যেন এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। যেকোনো ঝাল খাবার মুহূর্তের মধ্যেই শরীরের ভেতর থেকে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনে। শীতের আমেজ পুরোপুরি জমতে শুরু করলে রাস্তার ধারের পিঠার দোকানে গিয়ে গরম গরম চিতই পিঠা আর সঙ্গে ঝাল ঝাল মরিচ ভর্তার স্বাদ নিতে পারেন।
৫. ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখুন
ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখতে ভালো মানের একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এই ছোট্ট কিন্তু কার্যকরী ডিভাইসটি হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার দিনেও ঘরের ভেতরটা উষ্ণ ও আদ্র রাখতে সাহায্য করে।
৬. শরীর সচল রাখুন
শীতকালে শরীর গরম রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ব্যায়াম করা। দৌড়ানো, জগিং কিংবা ঘরের টুকিটাকি কাজ—শারীরিক যেকোনো নড়াচড়া আপনার রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
সামান্য এই প্রস্তুতিগুলোই আপনার শীতকালকে করে তুলতে পারে প্রাণবন্ত।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com