প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। উপাচার্যকে আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার শর্তে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে ‘ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার শর্তে মুক্তি’-এমন কোনো বিবৃতি দেননি বলে দাবি করেছেন উপাচার্য।
এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বহিরাগতদের নিয়ে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ ঘটনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য কার্যালয় না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে আবারও তালা লাগিয়ে দেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্যসহ সেখানে থাকা অন্যরা।
টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য।
তবে ‘ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার শর্তে মুক্তি’ দেওয়া হয়েছে-এমন কোনো বিবৃতি তিনি দেননি বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তারা দ্রুত আমার সুস্থতা কামনা করেছেন এবং দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’
এ সময় সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
মধ্যরাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি পুনর্বার জোর দিয়ে বলতে চাই, রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি শুধুমাত্র সেই অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কোনো এজেন্ডা হাসিল করতে বা কোনো দলীয় স্বার্থের পক্ষে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ করতে আসিনি।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থী সকলের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘তোমরা তোমাদের এই অমূল্য শিক্ষাজীবন, একাডেমিক লাইফ এটি নষ্ট করো না। তোমরা হয়তো কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়ে ব্যবহৃত হচ্ছো। তোমরা যথেষ্ট বুদ্ধিমান, তোমরা কারও দ্বারা ব্যবহৃত হবে না, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমিও এই ক্যাম্পাসের ছাত্র ছিলাম, ফলে তোমরা আমার এলামনাই ছোট ভাই-বোন। তোমাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, তোমাদের শিক্ষাজীবন যাতে প্রলম্বিত না হয়, এজন্য তোমরা খুব দ্রুত ক্লাসে ফেরত আসবা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পুনর্বার জোর দিয়ে বলতে চাই, রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি শুধুমাত্র সেই অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কোনো এজেন্ডা হাসিল করতে বা কোনো দলীয় স্বার্থের পক্ষে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ করতে আসিনি। আশা করি, আপনাদের গণমাধ্যম কোনো পক্ষপাত ছাড়াই সত্য প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ভিডিও বার্তার শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমার প্রাণের ক্যাম্পাস, চুয়েট ক্যাম্পাস ভালো থাকুক, ধন্যবাদ সকলকে।’
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com