ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শাসনাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সরকার ভেঙে দিয়েছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
রবিবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, মন্ত্রিসভার সুপারিশে তিনি পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকার ভেঙে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে প্রদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এ সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণার পরপরই পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতা জুনায়েদ আকবর দাবি করেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং প্রদেশে দলের সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাদেশিক গভর্নর একটি উপদেষ্টা পরিষদের সহায়তায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রাথমিকভাবে এ ব্যবস্থা ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পিটিআই। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকলেও দেশজুড়ে ইমরান খানের উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ পদযাত্রা আয়োজনের কথা ছিল। তবে সরকার ও পিটিআই নেতাদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য জানিয়েছে, পিটিআইয়ের পদযাত্রাকে ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে পৌঁছানো ঠেকাতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে কনটেইনার দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে, জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে পিটিআই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে দলটির মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশে আরও রক্তপাত, অস্থিতিশীলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে, সরকার শুরু থেকেই আলোচনায় বসার ব্যাপারে আন্তরিক ছিল না।
পেশোয়ারে মোবাইল সেবা বন্ধ, সড়ক ও বিআরটি চলাচল স্থগিত
এদিকে, নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে পেশোয়ারে মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি সড়ক যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাসিন্দাদের যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। শহরজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং রেড জোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সড়ক বন্ধ থাকার কারণে পেশোয়ারের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপেশোয়ার।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com