শিক্ষকতা পেশাদারত্বের পাশাপাশি একটি মহান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেছেন, শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, চরিত্র গঠনে সহায়তা করেন এবং তারাই শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে পুতিন বলেন, ‘শিক্ষক হওয়া শুধু একটি পেশার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি একটি মহান দায়িত্বপূর্ণ আহ্বান। এর জন্য প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং শিশু ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিরাম যত্নের পাশাপাশি প্রত্যেক শিশু ও তরুণের অনন্য প্রতিভা ও ভালো গুণগুলো বিকশিত করার সক্ষমতা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক যত্ন, অভিজ্ঞতা ও সংবেদনশীলতা শিক্ষার্থীদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে সহায়তা করে। তাদের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেরও ভিত্তি হয়ে থাকে।
পুতিন বলেন, তরুণ প্রজন্ম, স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যেই হোক না কেন, তারা যেখানে বাস করুক, তাদের একটি বৃহৎ ও ঐক্যবদ্ধ দেশের অংশ হিসেবে নিজেদের অনুভব করা গুরুত্বপূর্ণ। শৈশব থেকেই তাদের বহুজাতিক রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে মূল্যবোধগুলো মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, সেগুলোর শক্তি ও গুরুত্ব বুঝতে শেখানো প্রয়োজন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশেষ করে রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর হিসেবে ঘোষিত চলতি বছরে শিক্ষকদের এই কাজ অব্যাহত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, ইতিহাসজুড়ে অভিন্ন মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই রাশিয়াকে নিজস্ব পথ তৈরি করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। আগের প্রজন্মের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য এবং সমসাময়িকদের অর্জন নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি প্রতিটি সাফল্য, বিজয় ও অর্জনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুতিন আরও বলেন, চলতি বছর থেকে শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকতার দায়িত্বের প্রতি সমাজের উচ্চ মর্যাদার প্রতিফলন ঘটেছে এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পেশাগত উন্নয়নের নতুন সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব প্রতিযোগিতা শুধু মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষকদের স্বীকৃতি ও সহায়তা দেয় না, বরং উদ্ভাবনী, কার্যকর ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগও তৈরি করে। এর ফলে সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নত হয় বলে মন্তব্য করেন পুতিন।
তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও আরামদায়ক করে তোলা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সেরা ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ ও আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে সেগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
পুতিন বলেন, স্কুলে যত নতুন প্রযুক্তিই যুক্ত হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকবে; শিক্ষক নিজেই। শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও নিরলস দৈনন্দিন কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার কথাও জানান তিনি।
পুতিন বলেন, ‘আপনারাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, তাদের চরিত্র গঠনে সহায়তা করেন এবং ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেন’।
সূত্র : ক্রেমলিন
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com