মাহমুদ দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের নামে বরাদ্দকৃত ইউজার আইডি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) ‘অস্বাভাবিক কার্যক্রম’ শনাক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অনিয়মের ঘটনা তদন্তে ইসির গঠিত একটি তদন্ত কমিটি গত ১ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও উন্নয়ন) মো. ইউসুফ-উর-রহমান স্বাক্ষরিত গত ৩০ আগস্টের এক নোটিশে জানানো হয়, ‘Md_ashraful’ ইউজার আইডি থেকে অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে একই দিন কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আইডিটি সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের একাধিক সূত্রের দাবি, গত আগস্ট মাসে উক্ত আইডি থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ‘হিট’ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়েছে কিংবা কোন কোন সংবেদনশীল তথ্য অ্যাক্সেস করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অস্বাভাবিক আইডি ব্যবহারের বিষযে অফিস সহকারী মুকুল ইসলামের দিকে আঙুল তুললেও নিজের দায় পুরোপুরি এড়াতে পারেননি নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুকুলের জন্য পৃথক ইউজার আইডি বরাদ্দ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, "আমার নামে বরাদ্দ আইডি, অফিসের ল্যাপটপ ও মডেম আমি নিজেই ব্যবহার করি। তবে মুকুলকে কিছুটা অ্যাক্সেস দেওয়া ছিল। পুরো বিষয়টি এখন তদন্ত কমিটি যাচাই করছে।"
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান জানান, এনআইডি সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তার নিজস্ব পার্সোনাল আইডি রয়েছে। দেবীগঞ্জে কিছু ‘মিসইউজ’ বা অপব্যবহারের ঘটনা ঘটায় কমিশন বিষয়টি তদন্তে এসেছে। এটি মূলত একটি সাইবার-সংক্রান্ত বিষয়। তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী আইনানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনআইডি তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যেই দেবীগঞ্জের এই অনিয়ম নতুন করে আলোচনায় এলো।
ভোটার স্থানান্তরে অবহেলার অভিযোগ-
এদিকে একই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকাল পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জন সেবা প্রত্যাশী ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের জন্য অফিসে অপেক্ষা করলেও বিকাল সাড়ে ৪টার পর কোনো আবেদন গ্রহণ না করেই অফিস ত্যাগ করেন আশরাফুল ইসলাম। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীৎ সাহার হস্তক্ষেপে সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুল হক ও অফিস সহকারী মুকুল ইসলাম আবেদন গ্রহণ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরবর্তীতে আশরাফুল ইসলাম অফিসে ফিরে এসে কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সিসিটিভি ফুটেজে বিকাল সাড়ে ৪টার পর তাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তার দাখিল করা দুটি প্রত্যয়নপত্রে ১৬ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও লিখিত জবাবে ৪৮ জনের ভোটার স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা।
অভিযোগ অস্বীকার করে আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, "অফিস সময় শেষ হওয়ায় আমি বের হই, তখন বারান্দায় কোনো সেবা প্রত্যাশী ছিলেন না। পরে হয়তো কয়েকজন ইউএনও স্যারের সঙ্গে দেখা করেছেন।"
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তবে ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সমন্বয় করে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com