সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজ ‘পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প’ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। উক্ত পরিদর্শনে সেতু সচিবের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জনাব আলতাফ হোসেন সেখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক জনাব মো: ওহিদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব রিনাত ফৌজিয়া, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক(মওই) জনাব আঞ্জুমান আরা, উপপরিচালক(মওই) জনাব মো: মাসুদ রানা শিকদার, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সাইট অফিসের কর্মকর্তাগণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও সড়ক বাতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে বিশেষ নির্দেশনা সরকার দিয়েছে, এই প্রকল্পে তার সফল বাস্তবায়ন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটি চালু হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
সেতু সচিব আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও অদম্য সদিচ্ছার কারণেই আজ মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মুখ দেখছে। একই সাথে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক দিকনির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের বিশেষ নির্দেশনা ও পরিবেশবান্ধব ভাবনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের সমস্ত সড়ক বাতি সম্পূর্ণ সোলার প্যানেল বা সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৯.০৬ কিলোমিটার উড়াল সড়কের দুইধারে আধুনিক প্রযুক্তির মোট ৫৮৬টি সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে, যা সৌরশক্তি বা সোলার সিস্টেমের উৎপাদিত বিদ্যুতের সাহায্যে আলোকিত হবে। এতে দৈনিক ১০ ঘণ্টা বাতি জ্বালানো হলে ১১৭২ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাসিক ৪,০২,৯৩৩/- টাকা এবং বাৎসরিক ৪,৮,৩৫,২০৩/-টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বার্ষিক ৪,২১,৯২০ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
পরিদর্শন শেষে সেতু সচিব প্রকল্পের সাথে জড়িত সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও সুচারুভাবে কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি প্রকল্পের চলমান কাজের সার্বিক অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রকল্প পরিচালক-কে নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com