মাহবুবুল আলম,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গত সাত বছর ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানায় তালবীজ বপন করে আসছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। গত পাঁচ বছরে তিনি প্রায় ৩০ হাজার তালবীজ বপন করেছেন। তাঁর হাতে বপন করা অনেক তালগাছ এখন বিভিন্ন সড়কের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যা স্থানীয়ভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে তালবীজ বপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পাঁচিল এলাকা থেকে এনায়েতপুরগামী বাঁধের দুই পাশে তালবীজ বপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত দুই বছর ধরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দুই স্লোপে তিনটি করে সারিতে, প্রায় ১০ ফুট পরপর তালবীজ বপন করা হয়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে জগতলা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় বপন করা এসব তালবীজের অনেকগুলো ইতোমধ্যে গাছে পরিণত হয়ে দৃশ্যমান হয়েছে।
উদ্বোধনকালে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তালগাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গত সাত বছর ধরে যে উদ্যোগটি চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, “শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে এবং আগামীতেও করবে। তাঁর মতো উদ্যোগ নিয়ে সমাজের আরও মানুষ এগিয়ে এলে উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশেও সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, যমুনার তীরে তালগাছগুলো বড় হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নদীর তীর সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যার জন্য স্থানীয়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের দিকনির্দেশনার কথাও উল্লেখ করে তিনি এলাকাবাসীকে গাছগুলোর যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি তাল থেকে রস, পিঠা-পায়েসসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখে।
তিনি বলেন, “সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গত সাত বছর ধরে যে কাজটি করে আসছেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, তালগাছ বড় হলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষকরা মাঠে কাজ করার সময় অনেক ক্ষেত্রে বজ্রপাতে প্রাণ হারান। তাই বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে কিংবা উপযুক্ত জায়গায় তালবীজ বপনের মাধ্যমে তালগাছের সংখ্যা বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, তালগাছ অত্যন্ত উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি গাছ। স্থানীয়রা এসব গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সহযোগিতা করবেন।
সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “গত সাত বছর ধরে শাহজাদপুরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানায় তালবীজ বপন করে আসছি। বিভিন্ন স্থান থেকে তাল সংগ্রহ করে সেখান থেকে বীজ নিয়ে উপযুক্ত জায়গায় বপন করি। ইতোমধ্যে আমার হাতে বপন করা অনেক তালগাছ বড় হয়ে দৃশ্যমান হয়েছে।”
তিনি বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই প্রতি বছর এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। গত দুই বছর ধরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধেও তালবীজ বপন করছি। আমার এই উদ্যোগে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সবসময় সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। আমি ভবিষ্যতেও এ কাজটি অব্যাহত রাখতে চাই।”
ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে চলতি বছরের তালবীজ বপন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com