জাহিদুল ইসলাম দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর দুর্গাপুরে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪ টায় দুর্গাপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসমূখর পরিবেশে পুরস্কার বিতরণ করা হয় ।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা ফারজানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান ও দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্রী পঞ্চনন্দন সরকার।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,দুর্গাপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, পানানগর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল কুমার ঘোশ্মমী, ধরমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুস মোল্লা, বহরমপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আব্দুর মোতাকাব্বির, চককৃষ্ণপুর আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আব্দুল মান্নান, গৌরীহার আল আরাবীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আক্কাস আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সাঁতার, দাবা, হ্যান্ডবল ও কাবাডি—এই চারটি ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন দুর্গাপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আবু আরিফ রুবেল, দুর্গাপুর ফাজিল মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ আজিজুর রহমান, বহরমপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল গফুর, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ রুবেল এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান মিন্টুসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া শিক্ষকরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না, তাদের মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে পারে। একই সঙ্গে খেলাধুলা তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে।
তিনি আরো বলেন, একটি প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে শুধু জয়লাভ করাই বড় কথা নয়, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার মাধ্যমে শরীরচর্চার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। যারা এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানাই। আর যারা অংশ নিতে পারেনি, ভবিষ্যতে তাদেরও এ ধরনের প্রতিযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
উম্মে হাবিবা ফারজানা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ামুখী করতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার গ্রহণের সময় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com