ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভয়াবহ যানজটে আটকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত আমিরুন্নেছা নামে এক রোগীর অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো যেত।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। প্রায় চার ঘণ্টা স্থবির থাকার পর শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান লক্ষ্মীপুরের আমিরুন্নেছা।
স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। এরপর দীর্ঘ চার ঘণ্টা গাড়ি প্রায় স্থবির হয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সাড়ে রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান তিনি।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। শুক্রবার সকাল ৮টায় আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর এ যানজটের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্তও যানজট অব্যাহত ছিল।
দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই খাবার ও পানির সংকটে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী মুজাহিদ পরিবহনের যাত্রীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে যানজটে আটকা পড়েন তাঁরা। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমিরাবাদে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সুরমা পরিবহনের চালক রিপন মিয়া বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এখানে সংস্কারকাজ হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বাসের মধ্যে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরুর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট এখনো রয়েছে। যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কমাতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com