আহছানুল আমীন জর্জ, খুলনা ব্যুরো প্রধান : খুলনা মহানগরীতে চাঞ্চল্যকর মো. ইসমাইল শেখ (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি-কার্তুজ, সিমকার্ড, সার্চলাইটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে খুলনা সদর থানার মহির বাড়ি বড় খালপাড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে ইসমাইল শেখকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. ফারদিন খান (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার সঙ্গে জড়িত মো. রায়হান মোল্লা (২৪) ও মো. সাইফুল হাওলাদার (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে যা উদ্ধার পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ তিন রাউন্ড গুলি; তিনটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ; বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নয়টি সিমকার্ড; B-COMPANY গ্রুপের সদস্যদের ব্যবহৃত পাঁচটি গেঞ্জি; তিনটি কপালে ব্যবহারের উপযোগী সার্চলাইট; একটি কালো রঙের কলেজ ব্যাগ; একটি চামড়ার ছোট পার্স।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গেঞ্জিগুলোর সামনে ইংরেজিতে ‘B-COMPANY’ লেখা ও সিংহের মাথার লোগো রয়েছে। পেছনে ‘দোয়া মে ইয়াদ রাখনা’ এবং ‘সৌজন্যে নবাব’ লেখা রয়েছে, যা B-COMPANY গ্রুপের সদস্যরা লোগো চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও কার্তুজের ঘটনায় লবণচরা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনা, সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারদিন খানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। রায়হান মোল্লার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং সাইফুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশ বলেছে, অপরাধ যতই পরিকল্পিত বা সংঘবদ্ধ হোক, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com