সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধারসহ এর সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১৩৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, দিনাজপুর ক্যাম্প, র্যাব-১৩ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ অভিযানিক দল দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৪ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি কাচের জারে সর্বমোট আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি মোটরসাইকেল, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দামুর গ্রামের মোকলেসুর হকের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর সদর উপজেলার ছোট গুড়গোলা গ্রামের মৃত এ কে এম শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), ফুলবাড়ী উপজেলার ক্ষেত দেখি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মোঃ আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুর উপজেলার কৃন্দনহাট গ্রামের মৃত মোবারকের ছেলে উজ্জল আলী (৫৪),
আটকৃত ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য। তারা ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছে। উদ্ধারকৃত সাপের বিষও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত সাপের বিষ, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৮,৫৭,০৩,৮০০/- (আটত্রিশ কোটি সাতান্ন লাখ তিন হাজার আটশত) টাকা।
অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারকৃত মালামালসহ গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে উদ্ধারকৃত নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নমুনাটি সাপের বিষ হিসেবে শনাক্ত হয়।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “অতি মূল্যবান সম্পদ ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্যসহ যেকোনো অবৈধ দ্রব্যের পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com