তরুণদের শুধু খেলাধুলায় নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, একটি শান্তিপূর্ণ, সুস্থ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যুবসমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। সমাজে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘টাইগার রান ২০২৬’ মিনি ম্যারাথনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু উপাচার্য বা প্রশাসনের নয়; একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাবে না।”
তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে যারা এই দৌড়ে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যেই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এমন তরুণদের হাত ধরেই একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ‘টাইগার রান’ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে অনুষ্ঠানে এসে এর উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য জেনে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “বিশ্ব বাঘ দিবসকে কেন্দ্র করে শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আয়োজন হওয়া উচিত। এতে তরুণদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি দৌড় নয়; এটি তরুণদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক চেতনা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজের অবক্ষয় দূর করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এমন উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষিত বেকারত্ব কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, দেশের কোনো শিক্ষিত তরুণ-তরুণী যেন বেকার না থাকে। শুধু ডিগ্রিধারী তৈরি নয়, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
বক্তব্যে আমিনুল হক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণীসহ সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে হবে।
নিজের ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ভোরবেলার অনুশীলনের অভ্যাসের কথা তাঁর মনে পড়ে গেছে। বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় আয়োজিত এই ম্যারাথন অংশগ্রহণকারীদের জন্য ভিন্নমাত্রার আনন্দ নিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের একটি দাবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠালে তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা উচিত। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com