আরিফুল ইসলাম শ্যামল: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কৃষকের অনাগ্রহে দিনদিন কমতে শুরু করেছে পাটের আবাদ। এক সময় উপজেলার অধিকাংশ দুই ফসলী জমিতে আলু উত্তোলনের পর পাট চাষে সরব থাকতেন স্থানীয় কৃষকরা। বিভিন্ন কারণেই এখন পাট চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা।
তবে চলতি বছর সংশ্লিষ্ট কৃষকরা পাটের বাজার মূল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় পাইকারী দরে প্রকার ভেদে পাটের মণ কেনাবেচা হচ্ছে ৩ হাজার ২শ’ থেকে ৩ হাজার ৭শ’ টাকা করে।
জানা গেছে, এই অঞ্চলে পাট চাষে অনাগ্রহের অন্যতম কারণগুলির মধ্যে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সময় ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, শ্রমিক সংকট, পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে ভোগান্তি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অনেক ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা বা সহযোগিতা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার ফলে সোনালী আঁশের আবাদে অনিহার সৃষ্টি হয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্ট পাট চাষীরা।
প্রান্তিক কৃষকরা জানান, গেল বছর পাট ক্ষেতিতে উৎপাদন খরচের চেয়ে কমমূল্যে পাট বিক্রি করতে হয়েছে। প্রকার ভেদে দেশী জাতের পাটের মণ বিক্রি করতে হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩শ’ টাকা দরে। হাড়ভাঙ্গা খাটাখাটুনি ও উৎপাদনের ব্যায় খরচ বাদে পাট ক্ষেতিতে তেমন লাভ নেই হয়না বলছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা। তবে চলতি মৌসুমে পাটের কাঙ্খিত বাজার মূল্যে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলায় পাটের আবাদ হয় ২০০ হেক্টর, ২০২৩ সালে ১৮০ হেক্টর, ২০২৪ সালে ২২০ হেক্টর, ২০২৫ সালে ২৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়।
সরেজমিন ঘরে দেখা গেছে, উপজেলার শ্রীধরপুর, মদনখালী, আটপাড়া, সিংপাড়া, তন্তর, পাড়াগাঁও, বিবন্দী, বনগাঁও, বাড়ৈগাঁও, কল্লিগাঁও, বীরতারা, ছয়গাঁও, সাতগাঁও, বেলতলীসহ বিভিন্ন চকে পাটের আবাদ করা হয়েছে। পাট জাগ শেষে আঁশ ছাড়ানো ও রোদে শুকানো কাজ করছেন স্থানীয়রা।
বাড়ৈখালীর জীবন বাড়ৈ বলেন, স্থানীয় শিবরামপুর হাটে পাটের মণ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা দরে। মন্ডল নামে একজন বলেন, গেল বার পাট চাষে লোকসান হওয়ায় এবার পাটের আবাদ করেননি। বিবন্দীর আক্তার হোসেন বলেন, ব্যাপক খাটাখুটির পাশিপাশি পাট চাষে ব্যায় খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এবার পাটের বাজার দরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নানা প্রতিকূলতায় পাট চাষ করা জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। চলতি বছর পাট কাটার প্রথম দিকে পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। আবার পর্যাপ্ত পানির অভাবে লেবার দিয়ে দূরে এসব পাট নিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় পানিতে জাগ দিতে হয়।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, চলতি বছর উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পাট চাষ হয়। প্রায় ৪ হাজার ১শ’ বেল (১৮ হাজার ৪শ’ মণ) পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। সরকারি ভাবে এখনও পাটের মূল্য নির্ধারন হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে ভালমানের প্রতি মণ পাট কেনাবেচা ৩ হাজার ৭শ’ টাকা দরে। স্থানীয়দের পাট চাষে উদ্ধুদ্ব করণের লক্ষ্যে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com