দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৬ নং মাড়িয়া ইউনিয়নের কাশেমপুরে নীরবে গড়ে উঠছে একটি ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে কাজ করে আলোচনায় থাকা সহিহ কুরআন ও পারিবারিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মো. শহিদুল ইসলাম এবারও ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দিয়ে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষাবান্ধব এসব উদ্যোগে তিনি ইতোমধ্যেই একজন জনমুখী সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৭টায় কাশেমপুর বাজার জামে মসজিদে সহিহ কুরআন ও পারিবারিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় আবহ, শিশুদের উচ্ছ্বাস ও অভিভাবকদের আনন্দঘন উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।
একটি মসজিদে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ বিস্তৃত হয়েছে পুরো ওয়ার্ডে। বর্তমানে তিনটি মসজিদে তিনজন দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে শতাধিক শিশু কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের পাঠ গ্রহণ করছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু একটি মক্তব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার এক অনন্য উদ্যোগ।
হাফেজ মাওলানা মো. শাকিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহিহ কুরআন ও পারিবারিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সমাজসেবক মো. শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব, উপজেলা জাসাসের সদস্য আব্দুল হান্নান, তাহেরপুর কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মুফতি আজগর আলী, দোমাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক হাফেজ শামীম হুসাইন, কাশেমপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ সেলিম হুসাইন, কাশেমপুর নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম হাফেজ আনোয়ার হোসেন, ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল লতিফ, সমাজসেবক মো. নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বড় কোনো মানুষ নই। আল্লাহ আমাকে হালাল রুজির যে সামান্য সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়েই গ্রামের শিশুদের কুরআনের আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন দেখেছি। এক সময় এই এলাকার শিশুদের কুরআন শিক্ষা নিতে অনেক দূরে যেতে হতো। সেই কষ্ট থেকেই একটি মসজিদে একজন শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম শুরু করি। আজ আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনটি মসজিদে তিনজন শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে শিশুদের কুরআন শিক্ষা, পারিবারিক আদব-কায়দা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন নয়, কুরআন, বই আর খেলাধুলার সুযোগ তুলে দিন। তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করুন, নৈতিক শিক্ষা দিন। শুধু নিজের সন্তান নয়, প্রতিবেশীর সন্তানকেও সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ একটি ভালো সন্তান পুরো সমাজকে বদলে দিতে পারে। আমার একটাই স্বপ্ন—এই কার্যক্রম গ্রাম থেকে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন, আর একদিন পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ুক। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।
দোমাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক হাফেজ শামীম হুসাইন বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা সহজ নয়। শহিদুল ইসলাম একজন সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু নিজের সাফল্যকে শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। দূর প্রবাসে থেকেও এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশে ফিরে সেই মানবিকতার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন। আজ তিনি শুধু সাহায্য নয়, একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ার কাজ করছেন। এমন উদ্যোগ সমাজের জন্য সত্যিই অনুকরণীয়।
সভাপতির বক্তব্যে ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের এই কুরআন বিতরণ অনুষ্ঠান আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের। ছোট ছোট শিশুদের কুরআনের আলোয় বেড়ে ওঠা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা। শহিদুল ইসলাম ভাই দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও মানুষের কথা ভুলে যাননি। মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তিনি সবসময় বলেন, একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ রাখেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার শক্তি আরও বাড়িয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কেবল কুরআন বিতরণ নয়, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম এলাকায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একইভাবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন এবং এলাকার উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
প্রকাশকঃ দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদকঃ মোঃ আবদুল ওয়াদুদ II ভিজিট করুন - www.torrongonews.com