দেশজুড়ে

মির্জাগঞ্জে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বীর নিবাস নির্মান

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসস্থল বীর নিবাস নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মান কাজে সরকারী নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করছে বলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে অসহায় দরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১২ টি আবাসন(বীর নিবাস) নির্মান কাজের জন্য ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৪হাজার ৫৮৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজের দরপত্র আহবান করা হলে দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় বেতাগীর মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজ । গত ২৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখে কার্যাদেশ পেয় কাজ শুর“ করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।কিন্তু ঠিকাদার নির্মানকাজের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের ইট, খোয়া, ও স্থানীয় বালু ব্যবহার করে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও নির্মান কাজে পরিমানমত সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে । এসব নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করলে মুক্তিযুদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে ঠিকাদারের খারাপ আচারন করেন বলে অভিযোগ তাদের। দেউলী গ্রামের বাসিন্দা মো.রিয়াদ হোসেন বলেন, যারা নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন সেই মুক্তিযোদ্ধার ঘরের কাজের মান যদি এতোটাই নিম্নমানের হয় এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক। দেউলি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত সেকান্দর আলী মাষ্টারের স্ত্রী মোসাঃ সামসুর নাহার জানান , প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিয়েছেন। এ ঘর পেয়ে আমরা অনেক খুশী। কিন্তু ঘর নির্মাণের শুর“ থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানে সামগ্রী ব্যবহার করছেন।

দক্ষিণ কাকড়াবুনিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বীরঙ্গনা মোসাঃ আলেয়া বেগম বলেন, ঘরের কাজে লাগানো ইট ভাল না বালু দেছে কাদা-কাদা। আমি এই সব খারাপ মালামাল দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করলে ও তারা শুনছেন না।ইট ধরলে ভাইঙ্গা যায়। ঠিকাদার মো.বেলায়েত হোসেন খোকন বলেন, সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। তবে ভাল ইটের সাথে কিছু খারাপ ইট যেতে পারে। সেগুলো রাজ মিস্ত্রিকে ঘরে লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় উপ সহকারি প্রকৌশলী পটুয়াখালী অঞ্চলের আব্দুর রহমান বলেন, আমি অসুস্থতার কারনে ঘরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শণ করতে পারেনি। খুব শীঘ্রই কাজের মান পরিদর্শণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, বীর নিবাস নির্মাণে কোনো ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ